Posts

হো‌লি বা দোল পূ‌র্ণিমা কি?

Image
ভক্ত প্রহ্লাদ অসুরবংশে জন্ম নিয়েও পরম ধার্মিক ছিলেন।তাঁকে যখন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও হত্যা করা যাচ্ছিল না, তখন হিরণ্যকিশপুর বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুলে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। কারন হোলিকা এই বর পেয়েছিল যে আগুনে তার কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু অন্যায় কাজে শক্তি প্রয়োগ করায় হোলিকা প্রহ্লাদকে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করলে বিষ্ণুর কৃপায় প্রহ্লাদ অগ্নিকুণ্ড থেকেও অক্ষত থেকে যায় আর ক্ষমতার অপব্যবহারে হোলিকার বর নষ্ট হয়ে যায় এবং হোলিকা পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যায়, এই থেকেই হোলি কথাটির উৎপত্তি । অন্যদিক বসন্তের পূর্ণিমার এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেশি ও অরিস্টাসুর নামক অসুরকে বধ করেন। অন্যায়কারী, অত্যাচারী এই অসুরকে বধকরার পর সকলে আনন্দ করে। এই অন্যায় শক্তিকে ধ্বংসের আনন্দ মহাআনন্দে পরিণত হয়। অঞ্চল ভেদে হোলি বা দোল উদযাপনের ভিন্ন ব্যাখ্যা কিংবা এর সঙ্গে সংপৃক্ত লোককথার ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু উদযাপনের রীতি এক ।বাংলায় আমরা বলি ‘দোলযাত্রা’ আর পশ্চিম ও মধ্যভারতে ‘হোলি’,। ''হোলি''উৎসবের আগের দিন ‘হোলিকা দহন’ হয় অত্যন্ত ধুমধাম করে । শুকনো গাছের ডাল, কাঠ ইত্যাদি দাহ্যবস্তু অনেক আগে থ...

ফল্গু নদী সম্প‌র্কে জা‌নি

Image
ফল্গু নদী, বহ্নি চক্রবর্তীর ফেসবুক থেকে নেয়াঃ ফল্গু নদী গয়ার পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে, এটি হিন্দুদের কাছে একটি পবিত্র নদী। বনে বেশ আনন্দে আছেন মাতা সীতাদেবী। একদিনের কথা । এক বছর অতিকান্ত হয়েছে। একদিন রাজা দশরথ , সীতাদেবীকে দর্শন দিলেন । সীতাদেবী দশরথের আত্মাকে দেখে প্রনাম জানিয়ে বললেন- “পিতা আপনি কেন বিদেহী অবস্থায়?” দশরথ রাজা বললেন- “পুত্রী! আমি অমৃতলোকে স্থান পেয়েছি। সেখানে জেনেছি তুমি স্বয়ং দেবী হরিপ্রিয়া মাতা কমলা । তোমারই আরাধনা করে বণিক গন। তুমি সম্পদ, ঐশ্বর্যের দেবী। তোমার কৃপায় ভিখারীও চক্রবর্তী সম্রাট হতে পারে। পুত্রী সীতা , তুমি আমাকে বালি দ্বারা পিন্ড প্রদান করো । তোমার পিণ্ড প্রাপ্তি করে আমি তৃপ্ত হবো। তুমি আমার কাছে রামের সমান । ” সীতা দেবী তখন ফল্গু নদী, ব্রাহ্মণ, তুলসী বৃক্ষ, বট বৃক্ষ কে সাক্ষী রেখে দশরথ রাজার নামে বালির পিণ্ড দিলো। সে সময় রাম লক্ষণ সেখানে ছিলো না। পড়ে রামচন্দ্র ফিরে এসে সীতাদেবীর হস্তে বালুকা দেখে বললেন- “জানকী। তুমি বুঝি বালুকা দ্বারা ক্রীড়া করছিলে ?” সীতাদেবী বললেন- “না প্রভু। আপনি যখন ছিলেন না তখন শ্বশুর মহাশয় আমাকে দেখা দিয়ে আমার কাছে বালুকার পিণ্ড চাইছ...

মা কালীর বি‌ভিন্ন রুপ ও ম‌ন্দির সম্প‌র্কে জা‌নি

Image
তন্ত্রশাস্ত্রের মতে, কালী দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত তন্ত্রমতে পূজিত প্রধান দশ জন দেবীর মধ্যে প্রথম দেবী। শাক্তরা কালীকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ মনে করে। বাঙালি হিন্দু সমাজে দেবী কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়। 'ওঁ খড়্গং চক্রগদেষুচাপপরিঘান শূলং ভুসূণ্ডিং শিরঃ| শঙ্খং সন্দধতীং করৈস্ত্রিনয়নাং সর্বাঙ্গভূষাবৃতাম্ || নীলাশ্মদ্যুতিমাস্যপাদদশকাং সেবে মহাকালিকাম্ | যামস্তৌচ্ছয়িতে হরৌ কমলজো হন্তুং মধুং কৈটভম্ ||' ----মার্কণ্ডেয় চণ্ডীর প্রথম চরিত্র শ্রী শ্রী মহাকালীর ধ্যানমন্ত্রে পাওয়া যায়। কালীর নানা রূপ ও বিভিন্ন কালী মন্দির কালী একজন হিন্দু দেবী। যাঁর অন্য নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি। প্রধানত শাক্ত ধর্মাবলম্বীরা কালীর পূজা করেন। তন্ত্রশাস্ত্রের মতে, তিনি দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত তন্ত্রমতে পূজিত প্রধান দশ জন দেবীর মধ্যে প্রথম দেবী। শাক্তরা কালীকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ মনে করে। বাঙালি হিন্দু সমাজে দেবী কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়। পুরাণ ও তন্ত্র গ্রন্থগুলিতে কালীর বিভিন্ন রূপের বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে সাধারণভাবে তাঁর মূর্তিতে চারটি হাতে খড়্গ, অসুরের ছিন্নম...

ম‌ন্দি‌রে ঢোকার পূ‌র্বে আমরা কেন ঘন্টা বাজায়?

Image
মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢোকার আগে আমরা ঘণ্টা বাজাই। আগামা শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ঘণ্টাধ্বনি সেখান থেকে অশুভ শক্তিকে দূরে রাখে এবং সেই ধ্বনি ঈশ্বরের প্রিয়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, ঘণ্টাধ্বনি আমাদের মস্তিষ্ক পরিষ্কার করে। ঘণ্টা বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের ডান এবং বাম অংশ এক হয়ে যায়। ইকো মোডে ৭ সেকেন্ড পর্যন্ত ঘণ্টাধ্বনি বজায় থাকে। এই সাত সেকেন্ডে আমাদের শরীরের সাতটি আরোগ্য কেন্দ্র সক্রিয় হয়। যার ফলে আমাদের মস্তিষ্কে বর্তমান সমস্ত নেগেটিভ চিন্তাধারা মুছে যায় এবং ঈশ্বর আরাধনায় আমাদের সম্পূর্ণভাবে মনোযোগী করে তোলে। সবাই ধর্ম সম্মব্ধে জানুন এবং ঈশ্বর কে জানতে চেষ্টা করুন। এবং বাড়ির ছোট দের এই রকম ধর্ম শিক্ষা দিন।

ফরাদপুর শ‌্যামা সং‌ঘের উ‌দ্যো‌গে এক আ‌লোচনা সভা অনু‌ষ্ঠিত হয়

Image
৬/০৩/২১্ইং শ‌নিবার ফরাদপুর শ‌্যামা‌ সং‌ঘের উদ্দ‌ে‌্যা‌গে ফরাদপুর শ্রী‌ শ্রী স‌ার্বজনীন শ‌্যামা কালী ম‌ন্দি‌রে  এক  আ‌লোচনা সভা অনু‌ষ্ঠিত হয়। উক্ত অা‌লোচনা সভায় সভাপ‌তিত্ব ক‌রেন ম‌ন্দির ক‌মি‌টির সভাপ‌তি শ্রী উজ্জল পাল। উক্ত সভায় উপ‌স্থিত ছি‌লেন ম‌ন্দির ক‌মি‌টির সা:সম্পাদক , সে‌ক্রেটা‌রি, কোষাধক্ষ‌্য,সাংস্কৃ‌তিক সম্পাদক ও ক‌মি‌টির উপ‌দেষ্টা ম‌ন্ড‌লি এবং শ‌্যামা সং‌ঘের সকল সদস‌্যবৃন্দ। উক্ত সভায় অা‌লোচনা করা হয় গত বছর ২০২০ইং সা‌লের শ্রী শ্রী শ‌্যামা পুজার অায় ব‌্যায় এর হিসাব। এবং ম‌ন্দিরের অব‌শিষ্ট উন্নয়ন ও বর্তমান প্রতিমার প‌রিব‌র্তে পাথ‌রের প্রতিমা তৈ‌রি সম্প‌র্কিত বি‌ভিন্ন দিক নি‌র্দেশনা অা‌লোচনা করা হয়।এবং সর্বশে‌ষে সকল গ্রাম বাসীর মঙ্গল কামনায় এক মি‌নিট দা‌ড়ি‌য়ে থে‌কে মা‌য়ের কা‌ছে প্রার্থনা করা হয়।

তীর্থযাত্রীদের #করণীয়

Image
 হরিওঁ তৎ সৎ জয়গীতা জয়গুরু 🥀আসছে মার্চ১১তারিখ২০২১ তারিখে সীতাকুণ্ড শিব চতুরদশী মেলায়🌷🌷🌷 #তীর্থযাত্রীদের #করণীয়   🎯 রাত্রিকালে ভুলক্রমেও চন্দ্রনাথে আরোহন করবেন না। এই যাত্রা কৌতূহলোদ্দীপক হলেও আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য অত্যন্ত নিদারূণ যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠতে পারে। তাই সাবধান! 🎯 সীতাকুন্ডে আসার পূর্বেই আপনার গায়ে পরিহিত ছোট বা বড় যেকোন ধরনের স্বর্ণবস্ত্র বাড়িতে রেখে আসবেন। তীর্থ করতে বা আপনার প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোন অর্থ সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন না। ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে করে না নিয়ে আসাই ভাল। প্রতিবারই আমরা এই ব্যাপারে আপনাদের সচেতন করার চেষ্টা করছি, তবুও চুরি, ছিনতাই মেলার সময় নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশাকরি আপনারা আরও বেশী সচেতন হবেন। 🎯 রাত্রে নির্জন কোনো স্থানে রাত্রিযাপন করবেন না। আপনাদের রাত্রি যাপন করার জন্য অনেক তীর্থযাত্রী নিবাস রয়েছে। সেইগুলির কোনো একটিতে আশ্রয় গ্রহণ করবেন। নতুবা কোনো মন্দির প্রাঙ্গনে যেখানে রাতভর হরিনাম হচ্ছে সেখানে যোগ দিতে পারেন। 🎯 খুব ভোরে ব্যাসকুণ্ড থেকে স্নান করে, ভৈরব মন্দির এ প্রনাম করে আপনার তীর্থযাত্রা শুরু করুন। 🎯 স্নান ক...

রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের প্রাথমিক জীবনী:

Image
রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের প্রাথমিক জীবনী: ১৮৩৬ সালে ১৮ই ফেব্রুয়ারি রামকৃষ্ণ পরমহংস পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কামারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় এবং মা চন্দ্রমণি দেবী। রামকৃষ্ণের গদাধর চট্টোপাধ্যায় হিসাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। যখন থেকে চন্দ্রমণি তাকে ধারণ করেছিলেন, তখন থেকেই তিনি এবং তার স্বামী উভয়ই অলৌকিক ও রহস্যময় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন যা তাদের নিশ্চিত করেছে যে গদাধর কোনও সাধারণ শিশু হবে না। তরুণ গদাধর পড়তে ও লিখতে গ্রামের স্কুলে ভর্তি হয়েছিল তবে সে পড়াশুনো থেকে খেলতে পছন্দ করত। তিনি হিন্দু দেবদেবীদের মাটির প্রতিমা আঁকতে এবং বানাতে পছন্দ করতেন। তিনি তার মায়ের কাছ থেকে শুনে আসা লোক ও পৌরাণিক কাহিনী দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তিনি ধীরে ধীরে রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ এবং অন্যান্য পবিত্র সাহিত্য পাঠ করেন। তরুণ গদাধর প্রকৃতিকে এতটাই পছন্দ করতেন যে তিনি তাঁর বেশিরভাগ সময় উদ্যান এবং নদীর তীরে কাটাতেন। ১৮৪৩ সালে গদাধরের পিতার মৃত্যুর পরে, পরিবারের দায়িত্ব পড়ে তার বড় ভাই রামকুমারের উপর। পরিবারের উপার্জনের জন্য রামকুমার কলকাতায় ফিরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। গদাধর তাঁর ...