হোলি বা দোল পূর্ণিমা কি?
ভক্ত প্রহ্লাদ অসুরবংশে জন্ম নিয়েও পরম
ধার্মিক ছিলেন।তাঁকে যখন বিভিন্নভাবে
চেষ্টা করেও হত্যা করা যাচ্ছিল না,
তখন হিরণ্যকিশপুর বোন হোলিকা
প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুলে প্রবেশের
সিদ্ধান্ত নেন। কারন হোলিকা এই বর
পেয়েছিল যে আগুনে তার কোন ক্ষতি হবে
না। কিন্তু অন্যায় কাজে শক্তি প্রয়োগ
করায় হোলিকা প্রহ্লাদকে নিয়ে আগুনে
প্রবেশ করলে বিষ্ণুর কৃপায় প্রহ্লাদ
অগ্নিকুণ্ড থেকেও অক্ষত থেকে যায় আর
ক্ষমতার অপব্যবহারে হোলিকার বর নষ্ট
হয়ে যায় এবং হোলিকা পুড়ে নিঃশেষ হয়ে
যায়, এই থেকেই হোলি কথাটির উৎপত্তি ।
অন্যদিক বসন্তের পূর্ণিমার এই দিনে
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেশি ও অরিস্টাসুর নামক
অসুরকে বধ করেন।
অন্যায়কারী, অত্যাচারী এই অসুরকে
বধকরার পর সকলে আনন্দ করে। এই অন্যায়
শক্তিকে ধ্বংসের আনন্দ মহাআনন্দে
পরিণত হয়।
অঞ্চল ভেদে হোলি বা দোল উদযাপনের
ভিন্ন ব্যাখ্যা কিংবা এর সঙ্গে সংপৃক্ত
লোককথার ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু
উদযাপনের রীতি এক ।বাংলায় আমরা বলি
‘দোলযাত্রা’ আর পশ্চিম ও মধ্যভারতে
‘হোলি’,।
''হোলি''উৎসবের আগের দিন ‘হোলিকা
দহন’ হয় অত্যন্ত ধুমধাম করে । শুকনো গাছের
ডাল, কাঠ ইত্যাদি দাহ্যবস্তু অনেক আগে
থেকে সংগ্রহ করে সু-উচ্চ একতা থাম
বানিয়ে তাতে অগ্নি সংযোগ করে
‘হোলিকা দহন’ হয় ।
পরের দিন রঙ খেলা ।
বাংলাতেও দোলের আগের দিন এইরকম
হয় যদিও তার ব্যাপকতা কম – আমরা বলি
‘চাঁচর’ । এই চাঁচরেরও অন্যরকম ব্যাখ্যা আছে
। দোল আমাদের ঋতুচক্রের শেষ উৎসব ।
পাতাঝরার সময়, বৈশাখের প্রতীক্ষা। এই
সময় পড়ে থাকাগাছের শুকনো পাতা, তার
ডালপালা একত্রিত করে জ্বালিয়ে দেওয়ার
মধ্যে এক সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে ।
পুরনো জঞ্জাল, রুক্ষতা, শুষ্কতা সরিয়ে
নতুনের আহ্বান হচ্ছে এই হোলি। বাংলায়
দোলের আগের দিন ‘চাঁচর’ উদযাপনকে
এভাবেই ব্যাখ্যা করা হয় ।
আমাদের অনেক ধর্মীয় উৎসবেই আঞ্চলিক
লোক-সংস্কৃতি ও রীতির প্রভাব দেখা যায়,
হোলিও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলার
দোলযাত্রায় গৌড়ীয় বৈষ্ণব রীতির
প্রাধান্য পায়।
ঐতিহাসিকরা বিশ্বাস করেন
পূর্বভারতে আর্যরা এই উৎসব পালন করতেন ।
যুগে যুগে এর উদযাপন রীতি পরিবর্তিত হয়ে
এসেছে । পুরাকালে বিবাহিত নারী তার
পরিবারের মঙ্গল কামনায় রাকা পূর্ণিমায়
রঙের উৎসব করতেন ।
দোল হিন্দু সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন উৎসব ।
নারদ পুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ ও ‘জৈমিনি
মীমাংশা’য় রঙ উৎসবের বিবরণ পাওয়া যায়
। ৩০০ খৃষ্টপূর্বাব্দের এক শিলালিপিতে
রাজা হর্ষবর্ধন কর্তৃক ‘হোলিকোৎসব’পালন
ের উল্লেখ পাওয়া যায় । হর্ষবর্ধনের নাটক
‘রত্নাবলী’তেও হোলিকোৎসবের উল্লেখ
আছে । এমনকি আল বেরুণীর বিবরণে জানা
যায় মধ্যযুগে কোন কোন অঞ্চলে
মুসলমানরাও হোলিকোৎসবে সংযুক্ত হতেন
।
মধ্যযুগের বিখ্যাত চিত্রশিল্পগুলির
অন্যতম প্রধান বিষয় রাধা-কৃষ্ণের রঙ উৎসব
। এই রাধা-কৃষ্ণকে কেন্দ্র করে হোলির
অতি বৈষ্ণবীয় আচার। শ্রীকৃষ্ণের ঝুলন
থেকে দোল কথার উদ্ভব। রাধা-কৃষ্ণ
তত্ত্বকে দাড় করিয়ে বিপরীত লিঙ্গের
মাঝে অবাধ হোলি খেলা অবশ্যই ধর্মীয়
দৃষ্টিকোণ থেকে সমর্থন যোগ্য ।।
আর ও বড কারন আছে তা হল এই উৎসব বা
দিন টি আরও পবিত্র হয়ে ওঠে এই দিনে
ভগবান শ্রীকৃষ্ণই শ্রীচৈতন্যের মহাপ্রভুর
জন্মতিথি হচ্ছে এই পূর্ণিমা তিথি তথা
হোলি তিথি। তখন নবদ্বীপে সবাই হরিনাম
উচ্চারন করে গঙ্গায় স্নান করেন ''হরিবোল
হরিবোল''।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য এই উৎসবের
মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।
''হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে,
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে''।
অন্যায়কে পরাজিত করার আনন্দে সকলের
মন রাঙিয়ে উঠুক। চৈতন্য মহাপ্রভুর
আবির্ভাবে সকলের মন আনন্দে নেচে উঠুক
অবশ্যই এই কলিযুগের যুগধর্ম হরিনাম জপ ও
কীর্তন করুন।
কেউ বিষাক্ত রং ব্যবহার করবেন না ।
মদ্যপান সহ অসংগত পূর্ন কাজ করবেন না ।।
শুধু আবির ব্যবহার করবেন।। হরেকৃষ্ণ ।।
সবাইকে share করুন

Comments
Post a Comment
Love my religion