Posts

Image
দোলযাত্রা  একটি  হিন্দু   বৈষ্ণব  উৎসব। বহির্বঙ্গে পালিত  হোলি  উৎসবটির সঙ্গে দোলযাত্রা উৎসবটি সম্পর্কযুক্ত। এই উৎসবের অপর নাম  বসন্তোৎসব । ফাল্গুন  মাসের  পূর্ণিমা  তিথিতে দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন  বৃন্দাবনে   শ্রীকৃষ্ণ  আবির বা গুলাল নিয়ে  রাধিকা  ও অন্যান্য  গোপীগণের  সহিত রং খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয়। দোলযাত্রার দিন সকালে তাই রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ আবির ও গুলালে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে কীর্তনগান সহকারে শোভাযাত্রায় বের করা হয়। এরপর ভক্তেরা আবির ও গুলাল নিয়ে পরস্পর রং খেলেন। দোল উৎসবের অনুষঙ্গে ফাল্গুনী পূর্ণিমাকে দোলপূর্ণিমা বলা হয়। আবার এই পূর্ণিমা তিথিতেই চৈতন্য মহাপ্রভুর  জন্ম বলে একে গৌরপূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়। দোলযাত্রা উৎসবের একটি ধর্মনিরপেক্ষ দিকও রয়েছে। এই দিন সকাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে আবির, গুলাল ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়।  শান্তিনিকেতনে  বিশেষ ...

বাণী অর্চনার শু‌ভেচ্ছা ও অ‌ভিনন্দন

Image
সরস্বতী পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি অন্যতম প্রচলিত পূজা। সরস্বতী দেবীকে শিক্ষা, সংগীত ও শিল্পকলার দেবী ও আশীর্বাদাত্রী মনে করা হয়। বাংলা মাঘ মাসের ৫মী তিথিতে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা, সংগীত ও শিল্পকলায় সফলতার আশায় শিক্ষার্থীরা দেবীর পূজা করে থাকে। বাকদেবী, বিরাজ, সারদা, ব্রাহ্মী, শতরূপা, মহাশ্বেতা, পৃথুধর, বকেশ্বরী সহ আরো অনেক নামেই দেবী ভক্তের হৃদয়ে বিরাক করে। পুরাণ অন ুযায়ী দেবী সরস্বতী ব্রহ্মের মুখ থেকে উথ্থান। দেবীর সকল সৌন্দর্য্য ও দীপ্তির উৎস মূলত ব্রহ্মা। পঞ্চ মস্তকধারী দেবী ব্রহ্মা এক স্বকীয় নিদর্শন। পূজার জন্য দেবী সরস্বতীর মূর্তি শ্বেত বস্র পরিধান করে থাকে যা পবিত্রতার নিদর্শন। দেবীর আসন কে পুষ্পশোভামন্ডিত করে রাখা হয়। পরিবারের সকল সদস্য খুব ভোরে স্নান শেষে পরিস্কার বস্র পরিধান করে দেবীর সামনে অবস্থান করে থাকে। পুরোহিত পূজা শুরু করবার আগ পর্যন্ত দেবীর মুখমন্ডল ঢাকা থাকে। পূজার অর্ঘ্যর পাশাপাশি দেবীর পূজার অারেকটি প্রধান অংশ ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যপুস্তক। সরস্বতী পূজার একটি বিশেষ অর্য্য হল পলাশ ফুল। দেবীর অঞ্জলীর জন্য এটি একটি অত্যবশ্যকীয় উপাদান। পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্র (৩...
Image
🔔     পবিত্র বেদ দান করা সম্পর্কে কি বলছে? . 🌹     সনাতন ধর্ম অনুযায়ী গরীব-দুঃখীদের দান করা একজন মানুষের তার ইহজীবনের পাঁচটি মহাঋণের মধ্যে একটি।পবিত্র বেদ সর্বদা ই দান করাকে উত্সাহিত করেছে।এমনকি ঋগ্বেদের দশম মন্ডলের ১১৭ নং সুক্তটি সম্পূর্ণই দানের মহিমা নিয়ে দৃষ্ট যার কারনে সুক্তটির নাম দানস্তুতি সুক্ত।আজ আমরা এদের মধ্যে কয়েকটি মন্ত্র নিয়ে আলোচনা করব- . 🍁.    শাত হস্ত সমাহার, সহস্র হস্ত সং কির। (অথর্ববেদ ৩.২৪.৫) . অনুবাদ-আয় করতে হাতটিকে শতটিতে বৃদ্ধি কর আর দান করতে তাকে সহস্রটিতে রুপান্তরিত কর! . 🍁.    "ধনীদের উচিত দুঃস্থদের দান করা, তাদের দুরদৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া উচিত কেননা ধনসম্পদ হল রথের চাকার মত, এখন যা এখানে পরমূহুর্তেই তা অন্যখানে গতিশীল হয়।"(ঋগ্বেদ ১০.১১৭.৫) . 🍁.    মোঘমন্নং বিন্দতে অপ্রচেতাঃ সত্যং ব্রবীমি বধ ইত স তস্য। নার্যমণং পুষ্যতি নো সখায়ং কেবলাঘো ভবতি কেবলাদী।। (ঋগ্বেদ ১০.১১৭.৬) . অনুবাদ-যে ব্যক্তি দুঃস্থদের সাহায্য করেনা, অজ্ঞানী এবং অন্তঃদৃষ্টিহীন তার সকল উন্নতিই বৃথা, সকল সম্পত্তিই অনর্থক।যে অন্যদের সাহ...

🌷🌛কেন হরিনাম জপ করবো ?🌜🌷🌛

Image
🌜🌷🌛কেন হরিনাম জপ করবো ?🌜🌷🌛 🌞পরমেশ্বর ভগবান শ্ৰীকৃষ্ণের নাম অপ্ৰাকৃত - চিন্ময় ও স্বপ্ৰকাশ হওয়ায় তা জড় ইন্দ্ৰিয়ের দ্বারা দৰ্শন বা অনুভব করা সম্ভব নয়। কৃষ্ণের নাম, তার পরিকর, তার সখা-সখী ও তার লীলাক্ষেত্র বৃন্দাবন সবই পরাশক্তির অন্তৰ্গত এবং জড়া শক্তির সাথে সম্পৰ্ক নেই। এইজন্য এই হরিনাম সংকীৰ্তনই চিন্ময় জ্ঞান লাভের সরলতম পন্থা। 🌞গরুড় পুরাণের একটি শ্লোক আছে, ''যদিচ্ছসি পরং জ্ঞানং জ্ঞানদ যৎ পরমং পদম,   তদাদরেণ রাজেন্দ্ৰ কুরু গোবিন্দ কীর্তনম্‌''।। গরুড় পুরান ( ১৯ ) অৰ্থ : ''হে রাজন , যদি পরম জ্ঞান এবং সেই জ্ঞান লাভ করে পরম পদ লাভ করার ইচ্ছা হয় , তবে আদরের সাথে গোবিন্দ নাম কীৰ্তন করুন''। 🌞কৃষ্ণনাম ও কৃষ্ণস্বরুপের মধ্যে কোনো পরিচয় ভেদ নেই ; কেবল একটি মহতী গুন আছে, ''তা হলো , স্বরুপ অপেক্ষা নাম অধিক কৃপা করেন। অর্থাৎ কোন মানুষ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্বরুপ জেনে তার শ্রীবিগ্রহকে দর্শন বা পুজা করার যে ফল তার চেয়ে লক্ষ কোটি পরম ফল হয় যদি কেউ শ্রদ্বা সহকারে ভগবানের নাম হরিনাম জপ ও কীর্ত্তন করে। 🌞হরিনাম সংকীর্তনকারীকে সঙ্গে সঙ্গ...

এই গল্প‌টি একবার পড়ুন ,ভা‌লো লাগ‌বে অাপনা‌দের

Image
এক জ্ঞানী লোক হাতির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সে অবাক হয়ে খেয়াল করল, হাতিটি এমন একটি রশি দিয়ে বাধা যা কিনা হাতিটির জন্য ছিঁড়ে ফেলা খুবই সহজ । সে হাতিটির মালিককে খুঁজে বের করে এই কথাটি বলল যে,- ''কেন এত হালকা রশি দ্বারা হাতিটিকে বেঁধে র হাতিটির মালিক হাসি দিয়ে উত্তর দিল- “যখন হাতিটির বয়স খুব অল্প ছিল, তখন এই রশিটিই এর জন্য যথেষ্ট শক্ত হত ।বাচ্চা বয়সে এ তখন অনেক চেষ্টা করার পরও মুক্ত হতে পারেনি । একসময় সে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে এ রশি থেকে সে মুক্ত হতে পারবেনা ।যদিও এখন সে যথেষ্ট শক্তিশালী ।মূলত তার বিশ্বাস তাকে এখানে এই ঠুনকো রশি দ্বারা বেঁধে রেখেছে”। অবশেষে জ্ঞানীলোকটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে-- আমরাও অনেক সময় এক-দুই বার কোন কাজে ব্যর্থ হয়ে বিশ্বাস করতে শুরু করি যে–কখনই এ কাজ করা সম্ভব নয় । হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকি । ব্যর্থতা মূলত শিক্ষার একটি মাধ্যম ।এটিকে জীবনের ভোগান্তিতে পরিণত করা ঠিক নয় ।

শ্যামা মা‌য়ের সকল ভক্ত বৃন্দদের জানাই ইংরেজী নতুন বছ‌রের শু‌ভেচ্ছা২০১৭~

Image
➡ সুখি হতে চান?-ক্ষমা করতে শিখুন। ➡ ধনী হতে চান? - পরিশ্রমী হোন। ➡ ক্ষমা পেতে চান?- বিনয়ী হোন। ➡ ব্যক্তিত্ববান হতে চান?- ঠাট্টা ছাড়ুন। ➡ জ্ঞানী হতে চান ?- কম কথা বলুন। ➡প্রিয়পাত্র হতে চান?- হাসতে শিখুন। ➡ সম্পদশালী হতে চান?-বেশীবেশী দানকরুন। ➡ মহৎ হতে চান?-নিজের ভুল খুজুঁন। ➡ সফলতা চান?- ধৈর্য্যধারন করুন। ➡ হীনমন্যতা এড়াতে চান?-প্রত্যাশা বর্জন করুন। ➡ পাপ থেকে বাঁচতে চান? -লোভ ত্যাগ করুন। ➡ স্রষ্টার কৃপা চান?-সুসময়ে সৃ‌ষ্টিকর্তা‌কে স্মরন ➡ অন্তরে শান্তি চান?-আপনজনদের সাথে ভাল ব্যহার করুন। করুন।

মা কালীর পা‌য়ে শি‌বের জায়গা কেন?

Image
অসুর কূলের আক্রমনের ফলে সঙ্কটে পরে দেবতারা ।তাঁদের তাঁড়িয়ে স্বর্গরাজ্যের অধিকার নেওয়ার চেষ্টা করেছিল অসুররা । অসুরদের প্রধান ছিলেন রক্তবীজ । ব্রহ্মার বরে রক্তবীজের একফোঁটা রক্ত থেকে জন্ম নিচ্ছিল আরো হাজার রক্তবীজ । একফোঁটা রক্ত ভূমিতে পড়লেই আর্বিভূত হচ্ছিল অসুর বাহিনী । অসুর নিধন করতে অবর্তীণ হোন দেবী দূর্গা । সব অসুর নিহত হলেও বেঁচে থাকেন রক্তবীজ ।কিন্তু সেই যুদ্ধেও ব্রহ্মার বরে অপরাজেয় থাকেন রক্তবীজ ।এই অবস্থায় দূর্গার ভীষণ ক্রোধে তাঁর দুই ভ্রু এর মাঝখান থেকে জন্ম নেন দেবী_কালী । গ্নিকা কালীর ভয়াল দৃষ্টিতেই নিহত হয় বহু অসুর ।এরপর দেবীর চিত্কারে প্রাণহানি হয় আরও অনেক অসুরের । রক্তবরণ লকলকে জিব বের করে কালী গ্রাস করে নেন হাতিও ঘোড়ার সওয়ার অসুর বাহিনীকে।তারপরেও টিকে থাকেন রক্তবীজ । এই অবস্থায় দেবী কালী তাঁকে অস্ত্রে বিদ্ধ করে তাঁর রক্ত পান করতে থাকেন । রক্তবীজের একফোঁটা রক্তও যাতে ভূমিতে না পড়ে সেই কারনে রক্তবীজের দেহ শূণ্যে তুলে নেন দেবী কালী ।এই অবস্থায় রক্তবীজের দেহের সবটুকু রক্তপান করেন দেবী কালী।শেষ বিন্দু রক্ত পান করার পর নিথর রক্তশূণ্য রক্তবীজের দেহ ছুড়ে ফেলে দেন ...